দেখবো এবার জগৎটাকে (Dekhbo ebar jogot-ta-ke: A Bengali Blog): kolkata

Dekhbo Ebar Jogot-ta-ke is a bengali blog about some unknown interesting facts

WE ARE RECRUITING CONTENT WRITER. CONTACT: 7003927787
Showing posts with label kolkata. Show all posts
Showing posts with label kolkata. Show all posts

Wednesday, October 24, 2018

কেন হল এরকম নামকরন? পাথুরিয়াঘাটা নামকরনের পিছনে কারন কি ছিল?

October 24, 2018 0
কেন হল এরকম নামকরন? পাথুরিয়াঘাটা নামকরনের পিছনে কারন কি ছিল?
আজ পর্যন্ত নানারকম বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি,চেষ্টা করেছি অজানা তথ্যের সন্ধানকে যতটা সম্ভব বহুমুখী করার। আজ তাই একটু অন্যরকম বিষয় নিয়ে উপস্থিত হয়েছি ।
          আমাদের চারপাশে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যার নামকরণের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অনেক না জানা ইতিহাস।অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে আমরা প্রায় রোজ যাওয়াআসা করি ,কিন্তু সেখানকার নামটা ওরকম কেন হল আমরা কি কখনও ভেবে দেখি? এমনকি যেখানে আমরা থাকি সেখানকার নামকরণের কারণ কি আমাদের জানা?
‘বউবাজারে কি বউ পাওয়া যায়? উল্টোডাঙা কি সত্যি ই উল্টো’, সেসব আলোচনা আজকের মতো থাকুক।আজ আমরা যেই জায়গার ইতিহাস নিয়ে জানবো সেটি হল পাথুরেঘাটা বা পাথুরিয়াঘাটা। 




    উত্তর কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বনেদীপাড়া হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল। ঢিলছোঁড়া দূরত্বে রয়েছে ঠাকুরবাড়ী ,এছাড়াও উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবার ছিল যেমন ঘোষ পরিবার ,মল্লিক পরিবার। একাধিক বনেদী পরিবারের বাস থাকা সত্ত্বেও ,প্রদীপের তলার অন্ধকারের মতো এখানে গজিয়ে ওঠে পতিতালয় ।কিনতু এই অঞ্চলটি শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় তাদের ব্যবসার পক্ষে মোটেই সুবিধাজনক ছিল না।তাই তাঁরা আবেদন করেন শহরের বাইরে ঘেরাটোপের মধ্যে যেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় ।পতিতা উদ্ধারিনী সভার সভাপতি রাজা নবকৃষ্ণ এই আবেদনে সাড়া দিলেন।কিনতু আপত্তি উঠল এক শ্রেণীর পণ্ডিতদের মধ্যে। তাঁরা আশঙ্কা করলেন পতিতাদের শহরের বাইরে চালান করলে রোগ ছড়াবে সর্বত্র,তার চেয়ে বরং তারা এখন যেভাবে আছে সেরকমই থাক।
পাথুরিয়াঘাটা ঠাকুরবাড়ি

তৎকালীন নগরপাল বিধান দিলেন,পতিতারা পাড়ার মধ্যেই থাকবে,কিনতু ভদ্রবাড়ীর সাথে পতিতাবাড়ির পার্থক্য থাকাটা জরুরী। ঠিক হল পতিত বাড়ির বাইরে থাকবে পাথর ,এতে পায়ের ছাপ পড়বে না।বাকি অন্যান্য বাড়ির সামনে টা থাকবে কাঁচা।সেই থেকে অঞ্চলটার নাম হয়ে গেল পাথুরিয়াঘাটা।



ঠাকুর দুর্গ


ঘোষ বাড়ি

কথিত আছে পৌরাণিক অহল্যা ছিলেন প্রস্তরীভূত, শ্রীরামচন্দ্রের পবিত্র পাদস্পর্শে অহল্যার মুক্তি ঘটে।
পতিতারা অহল্যার পূজা করেন। পতিতাগৃহের বাইরে তাই পাথর থাকা সুলক্ষণ বলে গণ্য করা হত।
জানা যায়, তখনকার দিনে দুর্গাপ্রতিমা তৈরীতে ব্যবহৃত পতিতালয়ের মৃত্তিকা এখান থেকে সরবারহ করা হত।  

 প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন। এইরকম প্রতিবেদন আমাদের ব্লগে লেখার জন্যে যোগাযোগ করুন dejogot@gmail.com




[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]

Sunday, July 15, 2018

স্টোনম্যান সিরিয়াল কিলার : যে কখনো ধরা পড়েনি !

July 15, 2018 0
স্টোনম্যান সিরিয়াল কিলার : যে কখনো ধরা পড়েনি !

অনেক রাত করে আপনি হয়তো বাড়ি ফিরছেন ফাঁকা রাস্তা দিয়ে খোশ মেজাজে । কিন্তু এর মেয়াদ হতে পারে খুবই অল্প । আপনার আসে পাশেই হয়তো ওঁত পেতে আছে এক রহস্যজনক আততায়ী ! এবং তার পরবর্তী শিকারটি হয়তো আপনিই । কিছু বুঝে ওঠবার আগেই আপনার উপরে এসে পড়তে পারে একটি বড় পাথর আর আপনি নিমেষে চোখে অন্ধকার দেখবেন।

.
.
কি ? ঢোঁক গিলছেন বুঝি ? ভয় তো লাগারই কথা । কিন্তু জানেন কি এইরকম ঘটনা স্বয়ং কলকাতা'র বুকে ঘটে গেছে ? রাতের পর রাত পুলিশ প্রশাসনের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলো এই রহস্যজনক আততায়ী ।  কিন্তু  কি এই রহস্য এবং কে এই স্টোনম্যান  আর কেনই বা এই রহস্যের সমাধান আজও হতে পারেনি ? মনের প্রশ্ন চিহ্ন গুলি মিটিয়ে ফেলতে পড়ে ফেলুন এই নিবেদনটি।




ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শতাব্দীর শেষ দশকের দিকে অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে ।  পথচারীদের মনে ভয় জাগানোর মত ঘটনা ঘটলো সবার অখেয়ালে । বিন্দুমাত্র খোঁজ নেই কারুর কাছেই অথচ একটার পর একটা রহস্যজনক মৃত্যুর  ঘটনা কানে আসতে লাগলো  মুম্বাই পুলিশের। পর পর ১২ জনের মৃত্যু হয় । প্রত্যেক দিন ভোরবেলা পাওয়া যাচ্ছিল থেতলানো মাথার অসাড় শরীর । বিষয়টি প্রচণ্ড ভাবে নাড়া দেয় মুম্বাই পুলিশের বড় কর্তাদের । মোতায়েন করা হয় পুলিশবাহিনী । সাধারন মানুষ ঘর থেকে বেরনো বন্ধ করে দেয় রাত ১০ টার পর । ঘটনার তদন্ত করে কিছু আশ্চর্য জিনিস পুলিশের নজরে আসে । সেগুলি হল-----


  1. প্রত্যেকটি মৃত্যু ঘটে গভীর রাত্রে যখন সবাই ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন । 
  2. সবাইকে মারার ক্ষেত্রে যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা হয় তা হল আস্ত একটি ৩০ কেজির পাথর ! আর তাতে করেই আঘাত হানা হয় ।
  3. আর যাদের মৃত্যু ঘটে তারা সকলেই ফুটপাথবাসি ।


    তবে এই ঘটনার পেছনে কে বা কাদের হাত ছিল তার কিনারা আর হয়ে ওঠেনি । ধরা পড়েনি সিরিয়াল  কিলারটি । বিষয়টি সময়ের সাথে সাথে মানুষজন ভুলে যায় এবং মুম্বাইয়ের জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসে ।


    কিন্তু ঘটনার শেষ এখানেই নয় । যেন ফিল্মি ভাষায় "পিকচার আভি বাকি হ্যাঁয়"।

    টার্গেট এবার কিন্তু খোদ আমাদের কোলকাতা । মুম্বাই ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই ঠিক বছর চারেক পর ১৯৮৯ তে কানে এল মানুষ মরার ঘটনা । এবার তাঁর শিকার রাস্তার মানুষ, অসহায় ভিখারি,পাগল এবং রিক্সা চালক যারা এই শহরের আবর্জনাকে মাথায় বিছানা বানিয়ে ঘুমতো । যেমন লন্ডনের জ্যাক দ্যা রিপার, বোস্টন শহরের কুখ্যাত শ্বাসরোধকারী খুনি তেমনই ৩০০ বছরের ঐতিহ্যশালী কোলকাতাতেও এবার যেন এসে পড়েছিল রহস্যজনক স্টোনম্যানের ছায়া । যার ভয় সবাইকে দিনে দুপুরেও তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। রাস্তায় সমান ভাবে পাওয়া যেতে লাগলো মৃতদেহ । তবে এবার এ ১২ টি নয় পাওয়া গেল ১৩ টি মৃতদেহ। স্টোনম্যানের প্রথম শিকার হয় রাস্তার ধারে দেশি মদ বিক্রি করে জীবন চালানো এক মহিলা । দ্বিতীয় শিকার হয় পথভ্রষ্ট এক ভিখারি কিন্তু  সবথেকে আশ্চর্য বিষয় হলো ইনি মারা যান প্রথম মৃত্যুর ঠিক একমাস পর । ঘড়ির কাঁটাতে যেন নিয়ম করে ঠিক করে দেওয়া ছিল একদম একমাস পরেই পরবর্তী শিকার করা হবে । 

    পদ্ধতি এবারেও এক । মাথায় আঘাতের চিহ্ন,দেহের পাশে সেই রক্তাক্ত বড় পাথর ।  

    তদন্তে নামে কোলকাতা পুলিশ । এতে পুলিশ অনুমান করে আততায়ীর উচ্চতা কম করে ৬.২ ইঞ্চি । সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় । কিন্তু এক্ষেত্রেও কোনো কূলকিনারা খুঁজে পায়নি তৎকালীন লালবাজারের বড়কর্তারা । বুঝে উঠতে পারেনি আততায়ী ঘটনাটি একাই ঘটিয়েছে নাকি দল বেঁধে । যদিও শোনা যায় নাকি এক উন্মাদকে ধরে এনে কোলকাতা পুলিশ তাকে স্টোনম্যানের আখ্যা দেয় । 

    সম্প্রতি সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত বাংলা ছায়াছবি "২২ শে শ্রাবণ" এইরকমই ঘটনার উপর চিত্রিত ।   
    এছাড়াও "দ্যা স্টোনম্যান মার্ডারস" নামের হিন্দি সিনেমাটি সম্পূর্ণভাবে এই সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই । 

    সিরিয়াল কিলার স্টোনম্যান রহস্য শেষমেশ একটা মিসট্রি হয়েই রয়ে গেছে । আর এই অসমাধিত রহস্য কিন্তু তৎকালীন পুলিশ এবং প্রশাসনের ব্যর্থতাকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয় । 

    --------------------------------------------------------------------------------------------------

    এই প্রতিবেদনটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই নীচে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না । আর অবশ্যই সকলের সাথে শেয়ার করে জানার আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলুন ।


    [ আরও পড়ুনঃ বিধান চন্দ্র রায় মাত্র এক টাকায় কিনেছিলেন আজকের সল্টলেক। সল্টলেক সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। ]


    [ আরও পড়ুন ঃ জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ। ]

    [ আরও পড়ুন ঃ'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন? ]



    [আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন? ]






    Saturday, July 7, 2018

    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আগে এখানে ছিল একটি জেলখানা। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।

    July 07, 2018 0
    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আগে এখানে ছিল একটি জেলখানা। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।
    পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী তথা বাণিজ্য নগরী কলকাতার কথা বললে যে কয়েকটি স্থাপত্য ভাস্কর্যের কথা মাথায় আসে, তার মধ্যে প্রথম নামটি অবধারিত ভাবে হয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা হাওড়া ব্রীজ। আজকের আমাদের এই প্রতিবেদনটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই স্মৃতিসৌধটি রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিরক্ষার্থে তৈরি তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু এর পিছনেও লুকিয়ে রয়েছে অনেক না জানা ইতিবৃত্ত যা এই প্রতিবেদনের উপজীব্য। 



       যদি বলি, বর্তমানে যেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিসৌধটি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে কয়েক দশক আগেও ছিল দাগী আসামীদের কারাগার তাহলে কি খুব অবাক হবেন? অবাক হলেও এটাই বাস্তব!

       ১৭৬৭ সালে কলকাতায় দুটি মাত্র জেলখানা ছিল, একটি ছিল লালবাজারে এবং অপরটি বড়বাজারে। একটি ছিল Petty Crime বা লঘু অপরাধের জন্য, অপরটি Serious Crime বা ঘৃণ্য অপরাধের জন্য। তখন ইংরেজ শাসকরা যে হারে যথেচ্ছ ধরপাকড় করতেন তাতে জেলের জায়গা সংকুলান হয়ে পড়ায় ১৭৭৮ সালে প্রেসিডেন্সি জেল তৈরি করা হয় ঠিক সেখানে, যেখানে এখন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। স্থানীয় লোকেদের কাছে এই জায়গাটি 'হরিণবাড়ি' নামে পরিচিত ছিল। কথিত আছে এখানে নাকি নবাব সিরাজ-উদ্-দৌল্লা হরিণ শিকার করতে আসতেন। এই জেলটি উচ্চ শ্রেণীর কয়েদিদের জন্য ব্যবহার করা হত। এমনকি এই জেলে কয়েদিদের সাথে তাদের বাড়ির লোকের থাকারও বন্দোবস্ত ছিল। এই জেলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একজন কয়েদি ছিলেন 'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার জনক জেমস অগাস্টাস হিকি। পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্সি জেল ১৯০৬ সালে আলিপুরে স্থানান্তরিত করা হয় এবং প্রেসিডেন্সি জেল ভেঙে রানীর স্মৃতিসৌধকে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়। 

    [ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]

    [ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]

    আরও পড়ুন ঃ একটু দেরী, পন্ডিচেরী।]

    [ আরও পড়ুন ঃ জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ। ]

        ১৯০৬ সালে ওয়েলস এর রাজকুমার এই স্মৃতি সৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯০১ সালে রানীর অন্তর্ধানের পর ঠিক হয় সারা ভারত জুড়ে রানীর স্মৃতি রক্ষার্থে ছোট ছোট সৌধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন স্থির করেন কলকাতার বুকে একটি সুবিশাল স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করবেন যা হার মানাবে তাজমহলের ঔজ্জ্বল্য আর স্থাপত্যশৈলীকে।



       যেমন ভাবা তেমন কাজ। স্থাপত্য কাজের দায়িত্ব বর্তায় ' Royal Institute of British Architect' এর সভাপতি উইলিয়াম এমারসন এর ওপর এবং নির্মাণ কাজের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় কলকাতা ভিত্তিক কোম্পানি ' মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি' এর ওপর। সুদূর রাজস্থান থেকে ২০০,০০০ ঘনফুট মাক্রানা মার্বেল নিয়ে আসা হয়, যেই মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছিল তাজমহল তৈরিতে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে সৌধটি তৈরিতে প্রয়োজন প্রায় ৭৬ লাখ টাকা তোলা হয়েছিল ভারতের সাধারন জনগনের পকেট থেকে। এর থেকেই ছবিটা স্পষ্ট যে সেই সময় ইংরেজরা কিভাবে ভারতের সাধারন মানুষদের লুঠ করেছিলেন।


        ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বিভিন্ন ইংরেজ প্রশাসকদের মূর্তি সরিয়ে সেই স্থানে ভারতীয় বিখ্যাত ব্যক্তিদের মূর্তি বসানোর কাজ শুরু হয়। সরিয়ে ফেলা সেই সব মূর্তির বেশিরভাগ স্থান পায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাগানে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জেমস আউটরামের মূর্তি, যেটি পূর্বে পার্কস্ট্রীট ও চৌরঙ্গী ক্রসিং-এ শোভা পেত। ১৯৫৮ সালে সেই জায়গায় স্থান পায় মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি। 


    প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন। পরবর্তী পোষ্টের নোটিফিকেশান পেতে ব্লগটি ফলো অপশনে ক্লিক করুন।

    [ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

    [ আরও পড়ুন ঃ'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন? ]

    [আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন? ]


    Sunday, June 10, 2018

    জানেন কি রসগোল্লার কলম্বাস কাকে বলা হয় ?

    June 10, 2018 0
    জানেন কি রসগোল্লার কলম্বাস কাকে বলা হয় ?
    ভাত মাছ ছাড়াও  যদি বাঙালীদের কোনো কিছু দিয়ে বর্ণনা করা যায় তা হল রসগোল্লা । কিন্তু জানেন কি কিভাবে এর উৎপত্তি ? আর সুস্বাদু এই নরম ছানার মিষ্টি তৈরির পেছনে কার অবদান আছে ? এবং যিনি এই মিষ্টিকে জগৎজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিলেন কেনই বা তাঁকে "রসগোল্লা'র কলম্বাস" উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে ? তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক ।


    ছানার তৈরী রসগোল্লা 

    বাঙালীদের সাথে ইতিহাস বরাবরই ওতপ্রোতভাবে জড়িত । তাই এই রসগোল্লা তৈরির পেছনেও যে একটা রসালো ইতিহাস জড়িয়ে আছে তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে !


    বলা হয় যে ১৪৯৮ সালেভাস্কো দা গামা  ভারতে পদার্পণ করার পর থেকেই
    পর্তুগীজ ব্যবসায়ীদের সাথে বাঙালি ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক বেড়ে ওঠে। এদিকে পর্তুগীজদের পনির খুব পছন্দের খাবারগুলোর মধ্যে একটি ছিল। বাঙালি ব্যবসায়ীরা ক্রমে ক্রমে তা জানতে পারে এবং ছানা তৈরী করতে শেখে । ছানার চাহিদা বাড়তে থাকায় দুধ কেটে ছানা তৈরী যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে উঠলো ।

    ভোজনরসিক বাঙালীদের নতুন খাবারের প্রতি আকর্ষণ আজন্মের। এই ছানা তৈরির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ১৮৬৬ নবীন চন্দ্র দাশ নামের এক ময়রা বানিয়ে বসলেন এক আশ্চর্য মিষ্টির ! কথা ছিল গোল্লা বানানোর কিন্তু আমাদের নবীন বাবু গোল্লা বানাতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে এক খেয়ালে গোল্লা হাত থেকে ফস্কে গিয়ে পড়লো রসে,আর এই থেকেই সৃষ্টি হয় নরম তুলতুলে আর রস সমন্বয়ে এ যেন এক আশ্চর্য ব্যাঞ্জন,যা বাঙালির তথা ভারতবর্ষের মিষ্টির ইতিহাসে একদমই নতুন মোড় সৃষ্টি করে ।


    কিন্তু নবীন চন্দ্র দাশ এর এখনো "রসগোল্লা'র কলম্বাস" হয়ে ওঠা বাকি ছিল। মিষ্টি আবিষ্কার করে ফেললেও এখনো অব্দি কমসংখ্যক গ্রাহকই জানতেন এই নতুন তৈরী মিষ্টির কথা । কিন্তু সুদিনের আসা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র ।


    নবীন চন্দ্র  দাশ 

    একদিন হঠাৎ বাংলার এক স্বনামধন্য মাড়ওয়ারী জৈনিক ব্যবসায়ী ভগবানদাস বগলা ছেলে পুলেদের সাথে উঠলেন নবীন ময়রার দোকানে মিষ্টির স্বাদ নিতে। ব্যস আমাদের নবীন ময়রা খাওয়ালেন তার আশ্চর্য মিঠাই । গলাধঃকরণ করতে না করতেই তিনি বুঝতে পারলেন এই মিষ্টির কি মহিমা । এই ভগবানদাস বগলা মহাশয়ই পরবর্তীকালে একের পর এক বড় বড় মাপের অর্ডার দিয়ে রসগোল্লা আনতে লাগলেন নবীন ময়রার দোকান থেকে এবং আত্মীয় পরিজনের মধ্যে নবীন বাবুর মিষ্টির সুনাম করতে লাগলেন । ক্রমে ক্রমে রসগোল্লার আবিস্কারকর্তা হিসেবে দেশে বিদেশে নবীন চন্দ্র দাশ বিখ্যাত হয়ে উঠলেন । আর এই ভাবেই আবির্ভাব ঘটলো আমাদের "রসগোল্লা'র কলম্বাসের"



    বিঃদ্রঃ-রসগোল্লা সম্পর্কে যখন এত কিছু জানলেনই তখন একটা বিষয়ে অবশ্যই আপনাদেরকে ওয়াকিবহাল করাটা জরুরী । আপনারা হয়তো নিশ্চয়ই জানেন সম্প্রতি বেশ কিছুদিন আগে অবধি রসগোল্লা কার এই নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় । এই বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকার GEOGRAPHICAL INDICATIONS REGISTRY ডিপার্টমেন্টকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় । বাংলা ও ওড়িশার ইতিহাসবিদরা উঠে পড়ে লেগে যান আসলে রসগোল্লা তৈরির পেছনে কাদের অবদান সব থেকে বেশি । এমনকি ওড়িশাবাসী লেগে পড়েন ''রাসগুল্লা দিবস'' পালন করার জন্য । কিন্তু দীর্ঘ ২ বছর পর সার্ভে রিপোর্ট বেরিয়ে এলে পরে জানা যায় যে রসগোল্লা (ROSOGOLLA/ROSSOGOLLA) আসলেই বাংলা শব্দ । আর আমরা রসগোল্লাকে নিয়ে গর্ব করি আসলে তা আমাদেরই দান মিষ্টির ইতিহাসে । ওড়িশাবাসী যে রসগোল্লাকে নিয়ে মাতামাতি করছিল আসলে তার নাম 'পাহালা রাসগুল্লা' । তাই সর্বশেষে বাঙালির রসগোল্লা বাঙালীদেরই রইল কিন্তু এবার তার সাথে সরকারি অনুমোদনও রইল ।



    এই প্রতিবেদনটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই নীচে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না । আর অবশ্যই সকলের সাথে শেয়ার করে জানার আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলুন ।



    [ আরও পড়ুনঃ বিধান চন্দ্র রায় মাত্র এক টাকায় কিনেছিলেন আজকের সল্টলেক। সল্টলেক সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। ]


    [ আরও পড়ুন ঃ জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ। ]

    [ আরও পড়ুন ঃ'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন? ]


    [আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন? ]

    Monday, May 21, 2018

    বিধান চন্দ্র রায় মাত্র এক টাকায় কিনেছিলেন আজকের সল্টলেক। সল্টলেক সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।

    May 21, 2018 0
    বিধান চন্দ্র রায় মাত্র এক টাকায় কিনেছিলেন আজকের সল্টলেক। সল্টলেক সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।
    সল্টলেক তথা বিধান নগর, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার উত্তর পূর্বে অবস্থিত একটি উপনগরী তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি উপকেন্দ্র। আমরা যারা একবার হলেও সল্টলেক গিয়েছি, তারা জানি এই জায়গাটি কলকাতার বাকি অঞ্চলের মত ইতিউতি অবিন্যস্ত ভাবে গড়ে ওঠেনি। এটি একটি পরিকল্পিত শহর।




       দেশভাগের সময় অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর শরণার্থী অধুনা বাংলাদেশ থেকে চলে আসায় কলকাতার জনঘনত্ব হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এত বিপুল পরিমান মানুষের বাসস্থানের বন্দোবস্ত করার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে বিকল্প জায়গার। তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্রের নজর যায় কলকাতার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দিকে।





       ১৯৫৩ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর বিধান চন্দ্রের আমন্ত্রনে ডাচ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি 'NEDECO' উত্তরের লবনাক্ত হ্রদ্গুলিতে সার্ভে শুরু করে। ১৯৫৫ সালে ওই হ্রদের উত্তরের ১৭৩.৭ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এই পুরো জমিটি বিধান চন্দ্র রায় তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী হেমচন্দ্র নস্করের কাছ থেকে
      মাত্র এক টাকার বিনিময়ে কিনে নেন। এরপর ধাপে ধাপে নগর পত্তনের কাজ শুরু হয়। সত্তরের দশকের শুরুর দিকে এখানে জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে।

    [ আরও পড়ুন ঃ জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ। ]


    [ আরও পড়ুন ঃ ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন? ]


    [ আরও পড়ুন ঃ একটু দেরী, পন্ডিচেরী।]



    [ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]


       ইতিমধ্যে লোকমুখে এবং মিডিয়ায় সল্টলেক নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। লোকে বলতে থাকে বালি মাটি দিয়ে হ্রদ ভরাট করে গড়ে ওঠা বাড়ি ঘর যথেষ্ট ঝুঁকিপ্রবন। এতে জনমানসে সল্ট লেকের প্রতি বিরুপ ধারনা গড়ে ওঠে এবং সেখানে জায়গা কেনার উৎসাহে ভাঁটা পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের তরফে ক্রেতাদের আশ্বস্ত করা হলে এবং লিজের শর্ত শিথিল করা হলে পুনরায় ক্রেতাদের উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় প্রচুর শরণার্থী এপারে চলে আসে। তাদের সেক্টর ২ এর শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়। তার কিছুদিন পরে কংগ্রেস এর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় সল্টলেকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সেখানে সদ্য গড়ে ওঠা একটি অতিথি আবাসনে রাখা হয় যা পরে 'ইন্দিরা ভবন' নামে পরিচিত হয়।





       ইতিহাসে সল্টলেকের প্রথম উল্লেখ মেলে সিরাজ-উদ্-দৌল্লার সময়। ১৭৫৬ সালের ১৭ই জুন বাংলার নবাব সিরাজ লর্ড ক্লাইভের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে আক্রমন করার সময় এখানে ঘাঁটি গাড়েন। সিরাজের মৃত্যুর পর এই এলাকার মালিকানা চলে যায় মিরজাফর এবং তার উত্তরসূরি দের অধীনে। ধীরে ধীরে এই এলাকার মালিকানা হাতবদল হয়ে এসে পুঞ্জিভূত হয় স্থানীয় জমিদার দের হাতে। তাঁরা এখানে মাছ চাষ করতেন। ১৮৬৫ সালে ইংরেজ সরকার এই এলাকা পুনরায় অধিগ্রহন  করে এবং ১৮৭৮ সালে নন্দলাল দাস ও দুর্গাচরণ কুণ্ডকে লিজ দিয়ে দেয় ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত। ১৮৯০ সালে সরকার ৩৪০০ টাকার বিনিময়ে ভবনাথ সেনকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত লিজ দেয়। ১৯০৬ সালে পুনরায় ১০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয় ৯৭৫০ টাকার বিনিময়ে। ১৯১৬ সালের পর আর কোনো নথি পাওয়া যায়নি।


      ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর কলকাতায় রীতিমতো জনবিস্ফোরণ হয়। বাসস্থানের অভাবে প্রয়োজন হয়ে পড়ে বিকল্প ব্যবস্থার। কিন্তু কলকাতার কেবলমাত্র উত্তর দক্ষিণেই পুনর্বিন্যাস সম্ভব তাই বিধান চন্দ্র রায় কলকাতার ৩০ মাইল উত্তরে কল্যাণী শহরের সূচনা করেন সহায় সম্বলহীন শরণার্থীদের বাসস্থানের জন্য। কিন্তু তা ফলপ্রসু না হওয়ায় তাঁর নজর যায় সল্টলেকের দিকে।



    Bidhan Ch. Ray and Ajay Mukherjee inaugurating the work of Salt Lake




      ১৯৬২ সালের ১৬ই এপ্রিল ডাচ কোম্পানির থেকে সবুজ সঙ্কেত পেয়ে বিধান বাবু তৎকালীন সেচমন্ত্রী অজয় মুখার্জি-কে সাথে নিয়ে সল্টলেকের জমি ভরাট করার কাজের সূচনা করেন। সেক্টর ওয়ানের কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯৬৬ সালে জমি বণ্টন শুরু হয়। ১৯৬৯ সেক্টর ২ এবং ৩  এর কাজ শেষ হয়। সল্টলেকের প্রথম বাসিন্দা ছিলেন জীতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবার। ১৯৭৩ সালের ৫ই এপ্রিল একটি সার্কুলার জারি করে সল্টলেকের নাম পরিবর্তন করে এর জনকের নামে নাম রাখা হয় ' বিধান নগর '।

    প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন।


    [ আরও পড়ুন ঃ 'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন?]


    [ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]


    [ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]



    [ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]