দেখবো এবার জগৎটাকে (Dekhbo ebar jogot-ta-ke: A Bengali Blog): india

Dekhbo Ebar Jogot-ta-ke is a bengali blog about some unknown interesting facts

WE ARE RECRUITING CONTENT WRITER. CONTACT: 7003927787
Showing posts with label india. Show all posts
Showing posts with label india. Show all posts

Sunday, July 28, 2019

জানেন কী, স্বাধীন পাকিস্তানের বৈধ মুদ্রা ছাপা হত ভারত থেকে? পাকিস্তানের মুদ্রার জানা অজানা ইতিহাস।

July 28, 2019 0
জানেন কী, স্বাধীন পাকিস্তানের বৈধ মুদ্রা ছাপা হত ভারত থেকে? পাকিস্তানের মুদ্রার জানা অজানা ইতিহাস।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন যত সহজে কলমের আঁচড়ে ভারতকে ভাগ করেছিলেন, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে সবকিছু দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা অতটা সোজা ছিল না। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের জন্য তার জল, মাটি, আকাশ ভাগ বাঁটোয়ারা করার সাথে সাথে ভারতের ধন-সম্পদ, লাভ লোকসানও ভাগাভাগি করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে, যা ছিল খুবই জটিল, স্পর্শকাতর এবং দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ বিষয়।

ছয়জনের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয় এই বিষয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য, এবং তাদের পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বভার বর্তায় Reserve Bank of India এর ওপর। এই কমিটি ১৯৪৭ সালের ২৮শে জুলাই তাঁদের রিপোর্ট পেশ করেন, যার মূল সারমর্ম ছিল এই যেঃ


১। পাকিস্তানে নোট ছাপার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ৩১শে মার্চ, ১৯৪৮ ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেই ভারতীয় মুদ্রা চালু থাকবে এবং তারও ছয় মাস পর পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রা পাকিস্তানে বৈধ থাকবে বলে ঠিক হয়। অন্তর্বর্তী সময়ে পাকিস্তানের জন্য  জন্য মুদ্রা তৈরি করবে Reserve Bank of India।

২। অক্টোবর ১৯৪৮ পর্যন্ত ভারত পাকিস্তান দুই দেশের অর্থনীতির ভালো মন্দ নীতি নির্ধারণ করার পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে Reserve Bank of India এর ওপর।



১৯৪৮ সালের ১লা এপ্রিল Reserve Bank of India এবং ভারতীয় সরকার, পাকিস্তান সরকারের জন্য প্রথম নোট ছাপানো শুরু করে, যা শুধুমাত্র পাকিস্তানের মধ্যেই বৈধ থাকবে। এই নোট ছাপানো  হয়েছিল নাসিকের India Security Press থেকে।



নোটগুলি ছিল পুরদস্তুর ভারতীয় নোটের মতই, শুধু নোটের ওপরের দিকে ইংরেজিতে Government of Pakistan এবং নিচে উর্দু ভাষায় হুকুমত-ই-পাকিস্তান ছাপানো হত আলাদা করে। নোটে স্বাক্ষর থাকতো Reserve Bank of India এর গভর্নর এবং ভারতের অর্থমন্ত্রীর।


তখন শুধুমাত্র ১,৫,১০ এবং ১০০ টাকার নোট ছাপানো হত, ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানি নোট ছাপানোর কাজ State Bank of Pakistan এর হাতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু কেবলমাত্র পাকিস্তানি এক টাকার নোট ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ভারত থেকে ছাপানো হয়ে যেত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত পাকিস্তানি নোট ছাপানো হত বাংলা এবং উর্দু- এই দুইটি ভাষায়।



 প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন। এইরকম প্রতিবেদন আমাদের ব্লগে লেখার জন্যে যোগাযোগ করুন dejogot@gmail.com






Friday, June 8, 2018

কিভাবে মেদিনীপুরকে পিছনে ফেলে রেলশহর হিসাবে গড়ে উঠলো খড়্গপুর। খড়্গপুরকে নিয়ে কিছু জানা অজানা তথ্য।

June 08, 2018 8
কিভাবে মেদিনীপুরকে পিছনে ফেলে রেলশহর হিসাবে গড়ে উঠলো খড়্গপুর। খড়্গপুরকে নিয়ে কিছু জানা অজানা তথ্য।
পৃথিবীর দীর্ঘতম রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম হিসাবে খড়্গপুরের নাম একসময় বেশ পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই রেকর্ডের তকমাও চলে গেছে অন্য ষ্টেশনের নামের পাশে। তা সত্ত্বেও খড়্গপুরের গুরুত্বে এতটুকু ভাঁটা পড়েনি।





  দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়্গপুর সাবডিভিশনের অন্তর্গত খড়্গপুর ষ্টেশনটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত। ১০ প্ল্যাটফর্ম বিশিষ্ট এই ষ্টেশনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৭৫টি ট্রেন যাওয়া আসা করে। রেলের দক্ষিণ পূর্ব শাখায় এই ষ্টেশনের গুরুত্ব বিবেচনা করে একে  ' GATEWAY OF SOUTH EASTERN RAILWAY' আখ্যা দেওয়া হয়। বলাবাহুল্য, রেল মানচিত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় স্থান করে নেওয়া রেলশহর খড়্গপুরের ছায়ায় মেদিনীপুর ষ্টেশনটি একপ্রকার দুয়োরানী হয়ে রয়ে গেছে। কিন্তু ইতিহাস মতে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে হওয়ার কথা ছিল ঠিক উল্টোটা। অর্থাৎ খড়্গপুরের বদলে রেলশহর হিসাবে নিজেকে মেলে ধরার কথা ছিল মেদিনীপুরের। খড়্গপুর কিভাবে মেদিনীপুরকে পিছনে ফেলে রেলশহর হিসাবে পরিচিতি লাভ করল, আসুন জেনে নেওয়া যাক। 




ব্রিটিশ শাসকেরা তৎকালীন বোম্বাই নগরীর সাথে কলকাতাকে রেলপথে যুক্ত করতে চাইলেন। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছিল মেদিনীপুর হবে জংশন ষ্টেশন। কিন্তু বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে কোম্পানির (B.N.R.) আধিকারিকরা হিসেব করে দেখেন যে মেদিনীপুরের বদলে খড়্গপুরে জংশন ষ্টেশন বানালে লাভ বেশি। খড়্গপুরের পাথুরে জমিতে ঘরবাড়ি বানানোর খরচ কম হবে, কাঁসাই নদীর ওপর ডবল লাইনের সেতু তৈরির খরচও বেঁচে যাবে। তাছাড়া ঘন জঙ্গলে পূর্ণ খড়্গপুরের গাছ থেকে পাওয়া কাঠও কাজে লেগে যাবে রেল লাইন পাতার কাজে, এবং ঘরবাড়ি তৈরির কাজেও লাগবে। আজকের খড়্গপুরকে দেখে  এর জঙ্গুলে অতীত অনুধাবন করা মোটেই সহজসাধ্য কাজ নয়। এমনকি উনিশ শতকের শেষের দিকেও খড়্গপুর ছিল ঘন জঙ্গলে ভরা।
১৯০১ সালে তৈরি হল জংশন ষ্টেশন। তখনও সেখানকার জনবসতি মেরেকেটে সাড়ে তিন হাজার জনের। এখন তো সেই খড়্গপুর মিনি ইন্ডিয়া তে পরিনত হয়েছে।




ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে যখন প্রথম রেল ইঞ্জিন এসে পৌঁছালো  খড়্গপুরে, ভয়ে সবাই এদিক সেদিক ছুটে পালালো। এই ভয় বহুদিন পর্যন্ত ছিল। গাঁয়ে গাঁয়ে লোক পাঠানো হল ভয় ভাঙানোর জন্য। এমনকি বিনা পয়সাতেও চাপার সুযোগ দেওয়া হত। রেলের সাহেবদেরও আদি বাসিন্দারা ভালোভাবে নেননি। রেলের জন্য অনেকে ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছিলেন, জঙ্গলের অধিকার হারিয়েছিলেন। অনেকে আবার রেলগাড়িতে চড়তে চাইতেন না সেতু ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে, অনেকে চড়তেন না একই কামরায় সবার সাথে যাত্রা করে জাত যাওয়ার ভয়ে।




১৯১১ সালের মধ্যে খড়্গপুর পুরোদস্তুর রেলশহর হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে একে একে গড়ে উঠলো পৌরসভা, আই. আই. টি. । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলাইকুন্ডার জঙ্গল এলাকায় তৈরি করা হয় বিমানঘাঁটি। অহল্যাবাঈ রোড  সম্প্রসারিত করে গড়ে উঠলো ' ওডিশা ট্র্যাঙ্ক রোড'। বাংলা-ওডিশা যোগাযোগ বাড়ায় খড়্গপুর মেদিনীপুর বাজার এলাকায় পরিনত হয়।

লোকমতে খড়গেশ্বর শিবের নামানুসারে এই এলাকার নাম হয়েছিল খড়্গপুর। আরও শোনা যায় যে রেল লাইন পাতার সময়ে নাকি রোজ রাতে হাতির পাল এসে লাইন উপড়ে দিয়ে যেত। এই দেখে রেলের ইঞ্জিনিয়াররা সেখানে উঁচু সেতু তৈরি করে দেন, যাতে হাতিরা সহজে নিচ দিয়ে গলে যেতে পারে । সেই থেকে এই সেতুর নাম হয় হাতি গলা পুল।

এই প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন।

[ আরও পড়ুনঃ বিধান চন্দ্র রায় মাত্র এক টাকায় কিনেছিলেন আজকের সল্টলেক। সল্টলেক সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। ]

[ আরও পড়ুন ঃ জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ। ]

[ আরও পড়ুন ঃ'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন? ]

[আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন? ]


তথ্যসুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

Tuesday, March 27, 2018

একটু দেরী, পন্ডিচেরী।

March 27, 2018 2
একটু দেরী, পন্ডিচেরী।
সরকারি ভাবে ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ই আগস্ট পালন করা হলেও ভারতের একটি রাজ্য স্বাধীনতা দিবস পালন করে একদিন পরে অর্থাৎ ১৬ই আগস্ট। এমনকি এই রাজ্যের 'Official Language' বা 'দাপ্তরিক ভাষা' ফরাসী। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। আমরা কথা বলছি পন্ডিচেরীর

ভারতের কেন্দ্রশাসিত রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম পন্ডিচেরী(Pondicherry) তার কলোনিয়াল স্থাপত্যের কারনে ভ্রমনপিপাষু মানুষের কাছে অতিপরিচিত একটি নাম। এই পন্ডিচেরী সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব যেগুলো শুনলে আপনি হয়ত অবাক হয়ে যাবেন।




২০০৬ সাল থেকে পন্ডিচেরী তামিল ভাষায় পুদুচেরী নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। অধুনা এই পুদুচেরীতেই ১৬৭৪ সালে ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে তাদের হেড কোয়ার্টার তৈরি করে। ১৬ই জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে ফরাসী দের কাছ থেকে পুদুচেরী ব্রিটিশরা দখল করে নেয়।

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]
[ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]
[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

১৭৪২ থেকে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত চলতে থাকা অ্যাংলো ফরাসী যুদ্ধের ফলস্বরূপ উভয়ের মধ্যে বারংবার পুদুচেরীর শাসনভার হাতবদল হতে থাকে। ১৮৫০ সালে ইংরেজরা সমস্ত ভারতের ওপর অধিকার কায়েম করার পর পুদুচেরী, চন্দননগরের মত কিছু জায়গা ফরাসীদের হাতে ছেড়ে দেয়। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পুদুচেরী ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ছিল।
১৯৫৪ সালের ১৮ই অক্টোবর ফরাসীদের শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের বিষয়ে পন্ডিচেরী মিউনিসিপ্যাল এবং পঞ্চায়েত-এর ১৭৮ জন সদস্যদের নিয়ে একটি ভোট হয় যেখানে ১৭০ জন এর স্বপক্ষে ভোট দেন।
ভোটের ফলাফল অনুযায়ী ওই বছর ১লা নভেম্বর পন্ডিচেরীর শাসনভার ভারত সরকারের হস্তগত হলেও এর প্রয়োজনীয় দলিল দস্তাবেজ সই হয়েছিল ১৬ই আগস্ট ১৯৬২ সালে।

তাই ভারতের বাকি রাজ্যে ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন হলেও পন্ডিচেরীতে আজও স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয় ১৬ই আগস্ট এবং আজও এখানকার দাপ্তরিক ভাষা ফরাসী রয়ে গেছে। এমনকি পন্ডিচেরীর OFFICIAL GAZETTE এখনও ফরাসী ভাষাতেই প্রকাশিত হয়।


প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। কোন অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানান। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]
[ আরও পড়ুন ঃ ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন? ]