দেখবো এবার জগৎটাকে (Dekhbo ebar jogot-ta-ke: A Bengali Blog): british

Dekhbo Ebar Jogot-ta-ke is a bengali blog about some unknown interesting facts

WE ARE RECRUITING CONTENT WRITER. CONTACT: 7003927787
Showing posts with label british. Show all posts
Showing posts with label british. Show all posts

Saturday, July 7, 2018

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আগে এখানে ছিল একটি জেলখানা। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।

July 07, 2018 0
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আগে এখানে ছিল একটি জেলখানা। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী তথা বাণিজ্য নগরী কলকাতার কথা বললে যে কয়েকটি স্থাপত্য ভাস্কর্যের কথা মাথায় আসে, তার মধ্যে প্রথম নামটি অবধারিত ভাবে হয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা হাওড়া ব্রীজ। আজকের আমাদের এই প্রতিবেদনটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই স্মৃতিসৌধটি রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিরক্ষার্থে তৈরি তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু এর পিছনেও লুকিয়ে রয়েছে অনেক না জানা ইতিবৃত্ত যা এই প্রতিবেদনের উপজীব্য। 



   যদি বলি, বর্তমানে যেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিসৌধটি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে কয়েক দশক আগেও ছিল দাগী আসামীদের কারাগার তাহলে কি খুব অবাক হবেন? অবাক হলেও এটাই বাস্তব!

   ১৭৬৭ সালে কলকাতায় দুটি মাত্র জেলখানা ছিল, একটি ছিল লালবাজারে এবং অপরটি বড়বাজারে। একটি ছিল Petty Crime বা লঘু অপরাধের জন্য, অপরটি Serious Crime বা ঘৃণ্য অপরাধের জন্য। তখন ইংরেজ শাসকরা যে হারে যথেচ্ছ ধরপাকড় করতেন তাতে জেলের জায়গা সংকুলান হয়ে পড়ায় ১৭৭৮ সালে প্রেসিডেন্সি জেল তৈরি করা হয় ঠিক সেখানে, যেখানে এখন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। স্থানীয় লোকেদের কাছে এই জায়গাটি 'হরিণবাড়ি' নামে পরিচিত ছিল। কথিত আছে এখানে নাকি নবাব সিরাজ-উদ্-দৌল্লা হরিণ শিকার করতে আসতেন। এই জেলটি উচ্চ শ্রেণীর কয়েদিদের জন্য ব্যবহার করা হত। এমনকি এই জেলে কয়েদিদের সাথে তাদের বাড়ির লোকের থাকারও বন্দোবস্ত ছিল। এই জেলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একজন কয়েদি ছিলেন 'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার জনক জেমস অগাস্টাস হিকি। পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্সি জেল ১৯০৬ সালে আলিপুরে স্থানান্তরিত করা হয় এবং প্রেসিডেন্সি জেল ভেঙে রানীর স্মৃতিসৌধকে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়। 

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]

[ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]

আরও পড়ুন ঃ একটু দেরী, পন্ডিচেরী।]

[ আরও পড়ুন ঃ জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ। ]

    ১৯০৬ সালে ওয়েলস এর রাজকুমার এই স্মৃতি সৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯০১ সালে রানীর অন্তর্ধানের পর ঠিক হয় সারা ভারত জুড়ে রানীর স্মৃতি রক্ষার্থে ছোট ছোট সৌধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন স্থির করেন কলকাতার বুকে একটি সুবিশাল স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করবেন যা হার মানাবে তাজমহলের ঔজ্জ্বল্য আর স্থাপত্যশৈলীকে।



   যেমন ভাবা তেমন কাজ। স্থাপত্য কাজের দায়িত্ব বর্তায় ' Royal Institute of British Architect' এর সভাপতি উইলিয়াম এমারসন এর ওপর এবং নির্মাণ কাজের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় কলকাতা ভিত্তিক কোম্পানি ' মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি' এর ওপর। সুদূর রাজস্থান থেকে ২০০,০০০ ঘনফুট মাক্রানা মার্বেল নিয়ে আসা হয়, যেই মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছিল তাজমহল তৈরিতে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে সৌধটি তৈরিতে প্রয়োজন প্রায় ৭৬ লাখ টাকা তোলা হয়েছিল ভারতের সাধারন জনগনের পকেট থেকে। এর থেকেই ছবিটা স্পষ্ট যে সেই সময় ইংরেজরা কিভাবে ভারতের সাধারন মানুষদের লুঠ করেছিলেন।


    ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বিভিন্ন ইংরেজ প্রশাসকদের মূর্তি সরিয়ে সেই স্থানে ভারতীয় বিখ্যাত ব্যক্তিদের মূর্তি বসানোর কাজ শুরু হয়। সরিয়ে ফেলা সেই সব মূর্তির বেশিরভাগ স্থান পায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাগানে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জেমস আউটরামের মূর্তি, যেটি পূর্বে পার্কস্ট্রীট ও চৌরঙ্গী ক্রসিং-এ শোভা পেত। ১৯৫৮ সালে সেই জায়গায় স্থান পায় মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি। 


প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন। পরবর্তী পোষ্টের নোটিফিকেশান পেতে ব্লগটি ফলো অপশনে ক্লিক করুন।

[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

[ আরও পড়ুন ঃ'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন? ]

[আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন? ]


Tuesday, March 27, 2018

একটু দেরী, পন্ডিচেরী।

March 27, 2018 2
একটু দেরী, পন্ডিচেরী।
সরকারি ভাবে ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ই আগস্ট পালন করা হলেও ভারতের একটি রাজ্য স্বাধীনতা দিবস পালন করে একদিন পরে অর্থাৎ ১৬ই আগস্ট। এমনকি এই রাজ্যের 'Official Language' বা 'দাপ্তরিক ভাষা' ফরাসী। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। আমরা কথা বলছি পন্ডিচেরীর

ভারতের কেন্দ্রশাসিত রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম পন্ডিচেরী(Pondicherry) তার কলোনিয়াল স্থাপত্যের কারনে ভ্রমনপিপাষু মানুষের কাছে অতিপরিচিত একটি নাম। এই পন্ডিচেরী সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব যেগুলো শুনলে আপনি হয়ত অবাক হয়ে যাবেন।




২০০৬ সাল থেকে পন্ডিচেরী তামিল ভাষায় পুদুচেরী নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। অধুনা এই পুদুচেরীতেই ১৬৭৪ সালে ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে তাদের হেড কোয়ার্টার তৈরি করে। ১৬ই জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে ফরাসী দের কাছ থেকে পুদুচেরী ব্রিটিশরা দখল করে নেয়।

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]
[ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]
[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

১৭৪২ থেকে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত চলতে থাকা অ্যাংলো ফরাসী যুদ্ধের ফলস্বরূপ উভয়ের মধ্যে বারংবার পুদুচেরীর শাসনভার হাতবদল হতে থাকে। ১৮৫০ সালে ইংরেজরা সমস্ত ভারতের ওপর অধিকার কায়েম করার পর পুদুচেরী, চন্দননগরের মত কিছু জায়গা ফরাসীদের হাতে ছেড়ে দেয়। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পুদুচেরী ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ছিল।
১৯৫৪ সালের ১৮ই অক্টোবর ফরাসীদের শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের বিষয়ে পন্ডিচেরী মিউনিসিপ্যাল এবং পঞ্চায়েত-এর ১৭৮ জন সদস্যদের নিয়ে একটি ভোট হয় যেখানে ১৭০ জন এর স্বপক্ষে ভোট দেন।
ভোটের ফলাফল অনুযায়ী ওই বছর ১লা নভেম্বর পন্ডিচেরীর শাসনভার ভারত সরকারের হস্তগত হলেও এর প্রয়োজনীয় দলিল দস্তাবেজ সই হয়েছিল ১৬ই আগস্ট ১৯৬২ সালে।

তাই ভারতের বাকি রাজ্যে ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন হলেও পন্ডিচেরীতে আজও স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয় ১৬ই আগস্ট এবং আজও এখানকার দাপ্তরিক ভাষা ফরাসী রয়ে গেছে। এমনকি পন্ডিচেরীর OFFICIAL GAZETTE এখনও ফরাসী ভাষাতেই প্রকাশিত হয়।


প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। কোন অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানান। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]
[ আরও পড়ুন ঃ ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন? ]