দেখবো এবার জগৎটাকে (Dekhbo ebar jogot-ta-ke: A Bengali Blog)

Dekhbo Ebar Jogot-ta-ke is a bengali blog about some unknown interesting facts

WE ARE RECRUITING CONTENT WRITER. CONTACT: 7003927787

Wednesday, May 9, 2018

জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ।

May 09, 2018 0
জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ।
ভাষা, সাহিত্য, সংগীতের শুধু নয়, বাঙালির শিল্প-আত্মা সৃষ্টিতে কবিগুরুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চার কথা আমাদের সবার ঠোঁটস্থ। তাই তাঁর ১৫৭ তম জন্মদিবসে সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ নয়, বরং ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ নিয়েই এই লেখা। যদিও ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ ও সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। তাই তাঁর সাহিত্যচর্চার উল্লেখ দেখা দিলেও দিতে পারে।

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ছিলেন শখের চিকিৎসক। তাঁর লেখার টেবিলে সাজানো থাকতো বায়োকেমিক ওষুধের নানারকম শিশি। রামগড়ের কাঠের মিস্ত্রির আজন্মের স্নায়বিক ব্যাধি কয়েকদিন রবি ঠাকুরের ওষুধ খেয়ে সেরে গেলে তিনি নিজেকে অব্যর্থ খ্যাতিমান ডাক্তার হিসেবে গন্য করতে লাগলেন। সেযুগের বিখ্যাত ডাক্তার নীলরতন সরকার পর্যন্ত প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন যে রোগীর ক্ষেত্রে, সেই টাইফয়েড আক্রান্ত রোগী রানী মহলানবিশকে একান্ত নিজের চিকিৎসায় পুরোপুরি সারিয়ে তুললেন শখের হোমিও ডাক্তার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।



রানি চন্দের স্মৃতিচারন থেকে জানা যায় যে, " গুরুদেবের গানের বা কবিতার প্রশংসার চেয়ে হাজার গুন খুশি হতেন তিনি, কেউ এসে যদি বলত যে গুরুদেবের ওষুধে তাঁর অমুক অসুখটা সেরে গেছে..."।

[ আরও পড়ুন ঃ ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন? ]

আরও পড়ুন ঃ একটু দেরী, পন্ডিচেরী।]

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]

রবীন্দ্রনাথ ইউরোপের বাইরে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পান তাঁর 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ 'Songs Offerings' -এর জন্য। যদিও এই নোবেল পুরস্কার তিনি সরাসরি গ্রহন করেননি, পুরস্কারটি ব্রিটিশ দূতালয়ের মাধ্যমে তাঁর কলকাতার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নোবেল পুরস্কারের টাকায় তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।একথা কমবেশী আমরা সকলেই জানি। কিন্তু আপনারা অনেকেই হয়তো জানতেন না যে তৎকালীন ভারতের অর্থনৈতিক দুর্দশা দেখে আবেগতাড়িত রবীন্দ্রনাথ প্রথমে তাঁর পুরস্কারের টাকা দিয়ে সমবায় ব্যাঙ্ক গড়ে তোলার কথা ভাবেন।

কবিগুরু আট বছর বয়স থেকে সাহিত্যচর্চায় পদার্পণ করলেও ছবি আঁকা শুরু করেন প্রায় ষাট-টি বসন্ত অতিক্রম করার পরে। চিত্রশিল্পে কোনো প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও তিনি তাঁর জীবদ্দশার শেষ ১৭ বছরে প্রায় ৩০০০ টি ছবি আঁকেন।

নিজের পিতার মতো রবীন্দ্রনাথও ভ্রমণপিপাসু ছিলেন। ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে তিনি ৫টি মহাদেশের প্রায় ৩০ টি দেশে পায়ের ছাপ রেখে গেছেন। দীর্ঘ ভ্রমণকালের মধ্যে তিনি ৪ বার বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা দুজন পরস্পর পরস্পরের বিশেষ অনুরাগী ছিলেন।



গান্ধীজির সাথে রবীন্দ্রনাথের বিশেষ সম্পর্কের কথা আলাদা করে উল্লেখের প্রয়োজন নেই। গান্ধীজিকে 'মহাত্মা' উপাধিটি কবিগুরুই দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের কয়েকটি অধিবেশনে উপস্থিতও থাকতেন। তাঁর রচিত 'জন গন মন' ১৯১১ সালে অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে উদ্বোধনী সংগীত হিসাবে গাওয়া হয়, এবং পরবর্তীকালে জাতীয় সংগীত হিসাবে গৃহীত হয়। আমরা সকলেই জানি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। কিন্তু আরও একটি দেশের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথের রচনার ফসল, সেটি হল শ্রীলঙ্কা। বাংলা কবিতাটির অনুবাদিত ও পরিমার্জিত রূপ বর্তমানে শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীত।



'মহাত্মা' উপাধি দেওয়া ছাড়াও আরও এক কৃতি ভারতীয়ের নামকরণ করেন রবীন্দ্রনাথ। শিশুটির মা তাঁর ছেলের নামকরণ করে দেওয়ার আর্জি জানালে তিনি এমন একটি নাম দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন যা গোটা মর্ত্যে নেই। সেই শিশু আজ নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন নামে পরিচিত।

প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন।


[ আরও পড়ুন ঃ 'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন?]

[ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]

[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]

Monday, April 30, 2018

'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন?

April 30, 2018 0
'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কেন জানেন?
বাংলা সিনেমা জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন বিখ্যাত কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনী, আসল নাম রমা দাসগুপ্ত।

১৯৫২ সালে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয় 'শেষ কোথায়' সিনেমা দিয়ে, যেটি কখনও মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৫৩ সালে তিনি নির্মল দের নির্দেশনায় উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন 'সাড়ে চুয়াত্তর' সিনেমায়, যেটি বক্স অফিস হিট হয়। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।


তাঁর অভিনয় জীবনের ৬০ টি সিনেমার মধ্যে ৩০ টি সিনেমায় তিনি উত্তম কুমারের সাথে জুটি বাঁধেন। ১৯৫৫ সালে তিনি 'দেবদাস' সিনেমায় 'পারো'র চরিত্রে অভিনয় এর মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন-ও পান। তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলি সহজেই দর্শক ও সমালোচক দের মন জয় করে নিত।


ঈর্ষনীয় সাফল্যের গ্রাফে ভর করে চলা এই অভিনেত্রী শিখর স্পর্শ করেন ১৯৬৩ সালে যখন তিনি ' MOSCOW INTERNATIONAL FILM FESTIVAL' এ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান 'সাত পাকে বাঁধা' সিনেমার 'অর্চনা' চরিত্রের জন্য।


১৯৭৫ সালে সঞ্জীব কুমারের বিপরীতে তাঁর অভিনীত সিনেমা 'আঁধি' রাজনৈতিক বাধার কারনে ২০ সপ্তাহ আটকে ছিল। সিনেমাটি ব্যক্তিগত ভাবে আমার খুব পছন্দের।
ব্যস্ত সময়সূচীর কারনে সুচিত্রা সেন, সত্যজিৎ রায়ের 'চৌধুরানী' সিনেমায় অভিনয় করতে প্রত্যাখ্যান করেন বলে সিনেমাটি আর তৈরিই করেননি অস্কারজয়ী এই নির্দেশক।

[ আরও পড়ুন ঃ ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন? ]

আরও পড়ুন ঃ একটু দেরী, পন্ডিচেরী।]

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]

১৯৭৮ সালে দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিনয় জীবন থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তিনি আর কখনও জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি ২০০৫ সালে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মান ' দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পাওয়া সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন দিল্লী যাত্রা এবং জনসমক্ষে আসা এড়ানোর জন্য। এছাড়াও তিনি পদ্মশ্রী এবং বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কারও পান।২০১৪ সালের ১৭ই জানুয়ারি আমাদের সকলের প্রিয় মহানায়িকা পরলোক গমন করেন।

প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন।

[ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]
[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]
[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]

Thursday, April 19, 2018

ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?

April 19, 2018 0
ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?
শৌচালয় ছাড়া দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রা করার কথা আমরা আজকাল ভাবতেও পারি না। 'আজকাল' কথাটা ব্যবহার করলাম কারন কিছুদিন আগে পর্যন্ত জনসাধারনের জন্য ট্রেনে শৌচালয়-এর প্রচলন ছিল না। পরে এর অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান এক বাঙালী ব্যক্তির। তিনি উচ্চপদস্থ কোন রেলকর্মী ছিলেন না, ছিলেন আমার আপনার মত একজন সামান্য রেলযাত্রী।



এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তির নাম হল অখিল চন্দ্র সেন। ১৯০৯ সালে তাঁর লেখা এক অসামান্য চিঠির ফলস্বরূপ আমরা আজ ট্রেন-এ শৌচালয়ের ব্যবহার করতে পারছি। আসুন এই পুরো ঘটনাটা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

[ আরও পড়ুন ঃ ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন? ]

আরও পড়ুন ঃ একটু দেরী, পন্ডিচেরী।]

১৯০৯ সালে ট্রেন এ যাত্রা করার সময় পেটে প্রবল মোচড় অনুভব করেন অখিল বাবু। ট্রেন বীরভূমের আহমেদপুর স্টেশনে এসে থামতে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হয়ে ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন সংলগ্ন শৌচালয়ে যান। শৌচালয়ে থাকার সময়েই তিনি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার হুইশেল শুনতে পেলে কোনোরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে ছুটলেন ট্রেন ধরতে। একহাতে ধূতি এবং অন্য হাতে লোটা সামলে ট্রেন-এর গার্ডকে থামার জন্য ইশারা করলেও তিনি ট্রেন থামাননি। ইতিমধ্যে হন্যে হয়ে ছুটতে গিয়ে অখিল বাবু হুমড়ি খেয়ে পড়লেন লোক ভর্তি প্ল্যাটফর্মের ওপর।



ক্ষুব্ধ ও অপমানিত অখিল বাবু সেদিনের মত স্টেশন পরিত্যাগ করলেও পরে সমস্ত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে তিনি চিঠি লেখেন সাহেবগঞ্জ ডিভিশনাল রেলওয়ে অফিসে। চিঠিতে তিনি লেখেন যে ট্রেন- এ চাপার আগে পেট ভরে কাঁঠাল খাওয়ায় তাঁর পেট ফেঁপে ওঠায় তিনি একপ্রকার বাধ্য হয়ে ট্রেন থেকে নেমে শৌচালয়ে যান। তিনি প্রশ্ন করেন যে হাত দেখানো সত্ত্বেও কি ট্রেনের গার্ড এক মিনিটের জন্য ট্রেন দাঁড় করাতে পারতেন না। এমনকি ওই গার্ড-এর কাছ থেকে মোটা জরিমানা আদায় করে না দিলে তিনি সংবাদমাধ্যমে গোটা ঘটনা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দেন।


ইংরেজি ব্যাকরণ এবং বানান ভুলে ভরা চিঠিটি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দেখেন। এমনকি সেই চিঠিটি বর্তমানে নতুন দিল্লীর রেল মিউজিয়ামে রাখা আছে।
চিঠিটি আমি নিচে তুলে ধরলাম কিন্তু এটা পড়ে হাসতে হাসতে পেট ফেটে গেলে তার জন্য আমি দায়ী থাকবো না।


এই প্রতিবেদনটি পড়ার পর কখনও যদি ট্রেনে পেট হালকা করার জন্য শৌচালয়ে আশ্রয় নিতে হয় , তাহলে মনে মনে একবার অখিল বাবু কে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না।

প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন। পরবর্তী পোষ্টের নোটিফিকেশান পেতে ব্লগটি ফলো অপশনে ক্লিক করুন।

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]
[ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]
[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

Wednesday, April 11, 2018

'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?

April 11, 2018 0
'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?
'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- এই প্রবাদবাক্যটি শোনেনি এমন বাঙালী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু কে এই গৌরী সেন? ছোটবেলায় আমাদের সবার মাথাতেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেত কিন্তু এর সঠিক উত্তর কেউই দিতে পারত না। আসুন জেনে নেওয়া যাক কে এই গৌরী সেন, আদৌ এরকম কোন ব্যক্তির অস্তিত্ব আছে নাকি পুরোটাই কল্পনা? 

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]
[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]

 প্রবাদবাক্যের গৌরী সেন নামে বিখ্যাত ব্যক্তিটির পুরো নাম গৌরীকান্ত সেন। সুবর্ণবণিক সম্প্রদায়ের সম্ভ্রান্ত ব্যাবসায়ী সন্তান গৌরী ১৫৮০ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহন করেন, পিতার নাম নন্দরাম সেন। থাকতেন ৩৫ নম্বর কলুটোলা স্ট্রীটে।

  তাদের পারিবারিক ব্যাবসা জাহাজে মাল আমদানি রপ্তানি করে অল্প বয়েসেই গৌরী সেন ব্যাবসায়ী মহলে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন বৈষ্ণব চরণ শেঠের ব্যাবসার অংশীদার। তারা দুজনে মিলে একবার এক ডুবে যাওয়া জাহাজের দস্তা নিলামে কেনেন। পরে দেখা যায় আসলে দস্তার নিচে রুপো লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। গৌরী সেন এই রুপো ঈশ্বরের কৃপা বলে গ্রহন করেন।

সবাই জানেন গৌরী সেনের দানের হাত খুব দরাজ ছিল। দুহাতে টাকা বিলিয়ে অনেক লোককে ঋণমুক্ত করেন তিনি এবং বকেয়া রাজকর মেটাতে সাহায্য করেন। ঋণের দায়ে যাদের কারাদণ্ড হত, তাদের মুক্ত করার জন্যে গৌরী সেন বিখ্যাত ছিলেন। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতামাতার জন্য তার দরজা ছিল অবারিত। ১৬৬৭ সালে প্রখ্যাত এই দানবীরের মৃত্যু হয়।


এই প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।


Tuesday, April 10, 2018

আন্দামানের ইতিকথা

April 10, 2018 0
আন্দামানের ইতিকথা
আজ ভারতের আর এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কথা বলব। আগেরদিন লিখেছিলাম পন্ডিচেরী নিয়ে, আজ বলব আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কথা।
আন্দামান নিকোবর সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই পরেছি ছোটোবেলায়, সেলুলার জেলের সম্পর্কে শোনেনি এমন কেউ মনে হয় নেই। আর টুরিস্ট স্পট হিসাবে তো এর জুড়ি মেলা ভার।



কিন্তু আজ আমরা এসব নিয়ে কথা বলব না। আজ এমন দুটি তথ্য আপনাদের জানাব যা আগে আপনারা জানতেন না।

[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]
[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

আন্দামান এর রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরে একটি দ্বীপ আছে যার নাম ব্যারেন দ্বীপ। এই দ্বীপের ব্যারেন আগ্নেয়গিরি-টি হল ভারত তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।




এছাড়া আরেকটি অবাক করা তথ্য হল এখানকার বহুল প্রচলিত ভাষা। এখানকার সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ যে ভাষায় কথা বলে সেটি হল আমাদের সকলের প্রিয় বাংলা ভাষা। আন্দামান এর প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষ এই ভাষায় কথা বলে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে হিন্দি(১৮%) এবং তামিল( ১৭%)



এই প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধু ও আত্মীয়দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। এছাড়া এরকম কিছু মজার অজানা তথ্য আমাদের ব্লগে শেয়ার করতে চাইলে আপনার নাম ঠিকানা সহ মেইল করুন এই ঠিকানায় : dejogot@gmail.com



Sunday, April 1, 2018

ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন?

April 01, 2018 0
ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন?
ভোটদানের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবহিত। বিশেষ করে বর্তমান নেটিজেন-দের জন্য এই বিষয়ে আমার কোন বাক্যব্যয় করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আমাদের এই সুবিশাল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রথম ভোটার কে জানেন? আসুন তার সম্পর্কে কিছু কথা জেনে নিই।

[ আরও পড়ুন ঃ একটু দেরী, পন্ডিচেরী। ]
[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]
[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার কল্পা প্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্রী শ্যাম শরন নেগি হলেন ভারতের প্রথম ভোটার এবং বর্তমানে ভারতের প্রবীনতম ভোটার। ১৯৫১ সালের ২৫ শে অক্টোবর তৎকালীন 'মান্ডী' নির্বাচনক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত লোকসভা ভোটে তিনি প্রথম ভোট দেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সর্বপ্রথম ভোট বাকি সারা ভারতে ১৯৫২ সালে অনুষ্ঠিত হলেও হিমাচল প্রদেশে ভারী তুষারপাত এর কথা মাথায় রেখে সেখানে ভোট কিছু মাস আগে নেওয়া হয়।




স্বাধীন ভারতের প্রথম ভোটার শ্যাম শরন ১৯৫১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত রাজ্য এবং লোকসভা ভোটে ভোট দিয়েছেন। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ১০০ বছর বয়েসেও তিনি ভোট দিয়েছেন। ভোট দিতে যাওয়ার জন্য সরকার থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় এবং তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হয়। ২০১৪ সালে শ্যাম শরণকে নিয়ে GOOGLE তাদের "PLEDGE TO VOTE" ক্যাম্পেন এর অধীনে একটি ভিডিও বানালে রাতারাতি তিনি প্রচারের আলোয় চলে আসেন। নিচে ভিডিওটি আপনাদের জন্য দেওয়া হল।



আরেকটি মজার ঘটনা হল সাম্প্রতিক হিন্দি সিনেমা "Sanam Re" তে শ্যাম শরন এর সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি দেখা যায়।


আজকের দিনে এই দৃঢ়চেতা মানুষ টি ১০১তম বছরে পদার্পণ করলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই বিশেষ প্রতিবেদন। আরও অনেক বছর যেন তিনি নতুন প্রজন্ম কে ভোটদানে অনুপ্রেরনা জুগিয়ে যেতে পারেন এই কামনা করি।

এই প্রতিবেদন টি আপনাদের কেমন লাগলো নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ফেসবুক টুইটার এ আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা]


Tuesday, March 27, 2018

একটু দেরী, পন্ডিচেরী।

March 27, 2018 2
একটু দেরী, পন্ডিচেরী।
সরকারি ভাবে ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ই আগস্ট পালন করা হলেও ভারতের একটি রাজ্য স্বাধীনতা দিবস পালন করে একদিন পরে অর্থাৎ ১৬ই আগস্ট। এমনকি এই রাজ্যের 'Official Language' বা 'দাপ্তরিক ভাষা' ফরাসী। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। আমরা কথা বলছি পন্ডিচেরীর

ভারতের কেন্দ্রশাসিত রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম পন্ডিচেরী(Pondicherry) তার কলোনিয়াল স্থাপত্যের কারনে ভ্রমনপিপাষু মানুষের কাছে অতিপরিচিত একটি নাম। এই পন্ডিচেরী সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব যেগুলো শুনলে আপনি হয়ত অবাক হয়ে যাবেন।




২০০৬ সাল থেকে পন্ডিচেরী তামিল ভাষায় পুদুচেরী নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। অধুনা এই পুদুচেরীতেই ১৬৭৪ সালে ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে তাদের হেড কোয়ার্টার তৈরি করে। ১৬ই জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে ফরাসী দের কাছ থেকে পুদুচেরী ব্রিটিশরা দখল করে নেয়।

[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]
[ আরও পড়ুন ঃ প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্]
[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]

১৭৪২ থেকে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত চলতে থাকা অ্যাংলো ফরাসী যুদ্ধের ফলস্বরূপ উভয়ের মধ্যে বারংবার পুদুচেরীর শাসনভার হাতবদল হতে থাকে। ১৮৫০ সালে ইংরেজরা সমস্ত ভারতের ওপর অধিকার কায়েম করার পর পুদুচেরী, চন্দননগরের মত কিছু জায়গা ফরাসীদের হাতে ছেড়ে দেয়। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পুদুচেরী ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ছিল।
১৯৫৪ সালের ১৮ই অক্টোবর ফরাসীদের শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের বিষয়ে পন্ডিচেরী মিউনিসিপ্যাল এবং পঞ্চায়েত-এর ১৭৮ জন সদস্যদের নিয়ে একটি ভোট হয় যেখানে ১৭০ জন এর স্বপক্ষে ভোট দেন।
ভোটের ফলাফল অনুযায়ী ওই বছর ১লা নভেম্বর পন্ডিচেরীর শাসনভার ভারত সরকারের হস্তগত হলেও এর প্রয়োজনীয় দলিল দস্তাবেজ সই হয়েছিল ১৬ই আগস্ট ১৯৬২ সালে।

তাই ভারতের বাকি রাজ্যে ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন হলেও পন্ডিচেরীতে আজও স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয় ১৬ই আগস্ট এবং আজও এখানকার দাপ্তরিক ভাষা ফরাসী রয়ে গেছে। এমনকি পন্ডিচেরীর OFFICIAL GAZETTE এখনও ফরাসী ভাষাতেই প্রকাশিত হয়।


প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। কোন অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানান। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

[ আরও পড়ুন ঃ ট্রেন-এ শৌচালয় অন্তর্ভুক্তির পিছনে অবদান কার জানেন?]
[ আরও পড়ুন ঃ ভারতের সর্বপ্রথম এবং বর্তমানে প্রবীনতম ভোটার কে জানেন? ]

Sunday, March 25, 2018

প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্

March 25, 2018 0
প্রত্যাখ্যাত শাহেনশাহ্
ভারতীয় সিনেমার উল্লেখযোগ্য এবং অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা বলতে যাদের কথা সর্বা্গ্রে মাথায় আসে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের সকলের প্রিয় অমিতাভ বচ্চন। প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে ১৯০ এর বেশি সিনেমায় কাজ করে ফেললেও শুরুটা কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না।
অমিতাভের অভিনয় জীবনের চড়াই উতরাই সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি। কিন্তু যেটা জানি না সেটা হল যে অমিতাভের 'অভিষেক' ঘটে ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেন এর জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত সিনেমা "ভুবন সোম" -এ  Voice Narrator বা কথক হিসেবে।
সত্যজিৎ রায় এর অমিতাভ এর গলার আওয়াজে এত মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তাঁর "শতরঞ্জ কে খিলাড়ি" সিনেমায় অমিতাভকে কথক হিসেবে ব্যাবহার করেন।

[ আরও পড়ুন ঃ'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'- কে এই গৌরী সেন?]
[ আরও পড়ুন ঃ আন্দামানের ইতিকথা ]


এরপর একে একে 'পরিণীতা', 'যোধা আকবর', 'কাহানি', 'দ্য গাজী অ্যাটাক' ইত্যাদি সিনেমায় কথক হিসেবে তাঁর কাজ বিশেষ প্রসংসা লাভ করে।
 এমনকি বেশ কয়েকটি সিনেমা তে তিনি গানও গেয়েছেন। গায়ক হিসাবে তাঁর প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৭৯ সালে 'মিস্টার নটবরলাল' সিনেমাতে। এছাড়াও তাঁর কবিতাপাঠ এখনও বহু মানুষ টিকিট কেটে মুগ্ধ হয়ে শোনেন।
এহেন বহু সমাদৃত কণ্ঠের অধিকারীকেও ALL INDIA RADIO এর তরফে প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আজ্ঞে হ্যাঁ, অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

আসুন অমিতাভের নিজের মুখ থেকে শুনে নিই এই ব্যাপারেঃ


এই প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।